Text size A A A
Color C C C C

মহিষের জাত উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করুন

অতি সম্ভাবনাময় গৃহপালিত পশু মহিষ পালনের মাধ্যমে কেবলমাত্র প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরনই নই; বরং দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থাপন তথা দেশের যুব গোষ্ঠীর এক উল্লেখযোগ্য অংশের বেকার সমস্যা লাঘবেরও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। মহিষকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- জলাভূমির মহিষ(Swamp Type Buffalo)এবং নদীর মহিষ(River Type Buffalo) ।নদীর মহিষের মোট ১৮টি জাত রয়েছে। এদের মধ্যে নিলি রাভী,মুররাহ,সুরটি,জাফরাবাদি,মেহসানা,কুনদি,ভাদোয়ারি এবং ইতালীয় ভূ-মধ্যসাগরীয় মহিষ উল্লেখযোগ্য।
 

০৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা জেলাটি মহিষ পালনের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে পারিবারিক ও কিল্ল (বাথান) ০২টি পর্যায়ে মহিষ পালন করা হয়ে থাকে। ভোলা জেলার মোট মহিষের সংখ্যা ৯০,৮২৭টি। পারিবারিক পর্যায়ে মহিষের সংখ্যা ১৬,১৫৭টি এবং কিল্ল(বাথান) পর্যায়ে মহিষের সংখ্যা ৭৪,৬৭০টি।
 

উপজেলাভিত্তিক মহিষের সংখ্যাঃ- ভোলা সদরঃ ৫২২০টি,চরফ্যাশনঃ ৫৩১০১টি,দৌলতখানঃ ৫২০০টি,বোরহানউদ্দিনঃ ৮১৫০টি,লালমোহনঃ ৬২৫০টি,তজুমদ্দিনঃ ২৯০৬টি ও মনপুরাঃ ১০,০০০টি।
 

এসকল মহিষের উৎপাদন ক্ষমতা কম বিধায় জাত উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে পরেছে। বাংলাদেশের মহিষের গড় দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০-৭০০ লিটার/ল্যাক্টেশন। অপরদিকে বিদেশী উন্নত জাতের মহিষের গড় দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০০-৫০০০ লিটার/ল্যাক্টেশন। মহিষের আমদানীকৃত বীজ দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে প্রজনন ঘটিয়ে দেশজ মহিষের মানোন্নয়ন তথা দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির অশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ভারতবর্ষে জনপ্রিয় মুরাহ এবং পাকিস্থানের নিলি-রাভী জাতের মহিষের দৈহিক ওজন ও দুগ্ধ উৎপাদন ক্ষমতা উন্নত মানের। ভারতের এলাহাবাদ কৃষি ইনস্টিটিউটের ১৯৪৩ সালে প্রথম মহিষের কৃত্রিম প্রজনন সফল হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৭২ সাল থেকে তারা সফলভাবে মহিষের বীর্য সংগ্রহ,প্রক্রিয়াকরণ ও গভীর হিমায়িতকরণ এবং কৃত্রিম প্রজনন ককরে আসছে। বর্তমানে এই কৃত্রিম প্রজনন বৃহত্তর কর্মসূচী আকারে চলমান। এ সকল বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরাধীন মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পে ‘মুরাহ’ জাতের মহিষের বীজ ব্যবহার করে দেশীয় মহিষের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে।
 

প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ মহিষের কৃত্রিম প্রজনন,সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহন করে সফলভাবে জাত উন্নয়ন সম্ভব। তদানুযায়ী,বিগত ১৯/০৪/১২ ইং তারিখে তৎকালীন সচিব জনাব উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয় মহোদয় ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় বাংলাদেশে প্রথম মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। মূলতঃ তারপর থেকেই জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ, ভোলা জাত উন্নয়নে বিভিন্ন মুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তন্মধ্যে,প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (সরকারীভাবে): ৩৩০জন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম (বেসরকারীভাবে): ১৫৫০জন, সচেতনতামূলক উঠান বৈঠকঃ ১২৮৬টি, উঠান বৈঠকে উপস্থিতির সংখ্যাঃ ৩৬১২জন। কৃত্রিম প্রজনন সংক্রান্ত প্রচারপত্র বিলি- ২০০০টি। মার্চ/১৬ মাস পর্যন্ত ২১৯টি মহিষকে কৃত্রিম প্রজনন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে; যার ফলশ্রতিতে ১০ টি এড়ে ও ০৭ টি বকনা মোট ১৭ টি উন্নত জাতের বাচ্চা উৎপাদন করা গেছে । এ কার্য্যক্রম অব্যাহত ভাবে চলছে চলবে ।

এ কর্মসূচি বেগবান করতে সকলের সহায়তা প্রদান।