Text size A A A
Color C C C C

ক্ষুদ্র প্রাণীর বৃহৎ দান, পাখীদের চাষ বাড়ান

 এ সকল প্রাণী আকারে ক্ষুদ্র হলেও তাদের অবদান অসামান্য। বেকার শিক্ষিত যুবক,ভূমিহীন,ভাসমান শ্রেণীর মানুষ,স্বামী পরিত্যাক্ত বিধবারা এ সকল পাখীদের খামার করে কর্মসংস্থান,জাতীয় আয় বৃদ্ধি,আমিষ খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের  উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন। বাংলাদেশের নদীনালা,খাল-বিল,চরাঞ্চল,পুকুর-ডোবা ইত্যাদি জলাশয় হাঁস পালনের বিস্তৃত ক্ষেত্রে প্রস্তুত করেছে। মুরগীর খামার স্থাপন বর্তমানে বাংলাদেশের শহরে ও গ্রামে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। পোষা পাখীও হতেও পারে কর্মসংস্থাপনের হাতিয়ার। কিছু প্যারোট প্রজাতির পাখী যেমন- লাভবাডস,কাকাতুয়া,ম্যাকাও,ভাসা প্যারোট,আমাজন প্যারোট,ফিগ প্যারোট,বাজরিগার মানুষ শখ করেও পোষে। ঘুঘু ও কবুতর প্রতিবার ২টা করে ডিম দিলেও এক মৌসুমে ছয় থেকে আটবার বাচ্চা ফোটায়। এছাড়াও ফিঞ্চ প্রজাতির পাখিরা গড়ে ৪-৬ টি ডিম পাড়লেও বছরে ৪-৬ বার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। রাজহাঁসকে সেবা প্রদানকারী পাখী হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়। রাজহাঁসের মাংস ও ডিম দু-ই সুস্বাদু। এর পালক দিয়ে লেপ,তোষক,বালিশ,তাকিয়া,কুশন ও হেলান দেবার নরম জিনিসপত্র তৈরী করা হয়। রাজহাঁসের ডিমের ওজন ১৪৪ থেকে ১৫০ গ্রাম হয়ে থাকে যা হাঁস-মুরগীর ডিম থেকে প্রায় ৩ গুন বেশি। ১টি লেয়ার মুরগী হতে বৎসরে গড়ে ডিম আসে ৩০০টি। অনুরূপ ভাবে ১টি হাঁস থেকে ডিম আসে ২০০ থেকে ২৫০টি।  এফএও তথ্যমতে, একজন মানুষের সামগ্রিক দৈনিক আমিষ গ্রহণের কমপক্ষে ১৫ গ্রাম আসা উচিত প্রাণিজ আমিষ থেকে। ১৯৭৭ সনে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য তালিকার প্রাণিজ আমিষের ১৪% আসতো পোলট্রি থেকে যা ১৯৮৭ সনে এসে উন্নীত হয় ২৩% । বর্তমানে সেটি আরো বেড়েছে বলে সংশিস্নষ্টদের ধারণা এবং দামের স্বল্পতা,উত্তরোত্তর উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এক্ষেত্রে প্রাণিজ আমিষের কমপক্ষে ৫০% দখল করার সুযোগ রয়েছে পোলট্রিজাত পণ্য থেকে। বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে মাথাপিছু বার্ষিক গড়ে ৪৫-৫০টি ডিম এবং ৩.৬৩ কেজি পোলট্রি মাংস ভোগ করেন।