Text size A A A
Color C C C C

আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে

যে সকল প্রাণীদের কাছ থেকে আমরা দুধ পেয়ে থাকি চিত্রে তার কিয়দংশ প্রদর্শন করা হয়েছে। দুগ্ধ খামার একটি লাভজনক কর্মসূচী। সংকরায়নের মাধ্যমে সৃষ্ট একটি গাভী হতে দৈনিক ৮-১০ লিটার দুধ পাওয়া যায় এবং খাদ্যসহ এরূপ একটি গাভীর দৈনিক খরচ মাত্র ৪০-৫০ টাকা। হিসাব করে দেখা গেছে মাত্র ৫টি গাভীর ক্ষুদ্র একটি খামার হতে খামারীর নীট লাভ আসতে পারে বৎসরে কমপক্ষে প্রায় ৬০.০০০ টাকা। স্ব-কর্মসংস্থান,আয়ের উৎস সৃষ্টিসহ এ কর্মসূচী দেশে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করে গুড়া দুধের আমদানী হ্রাসসহ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে পারে। তাছাড়া  দুধ আমাদের দেহের জন্য সব চাইতে উপাদেয় খাবার। আমাদের দেহের শারীরবৃত্তিয় কার্যাবলি পরিচালনার জন্য দৈনিক যে পরিমাণ ভিটামিন ও মিনের‌্যালসের প্রয়োজন, তার একটি বিরাট অংশ আমরা দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য থেকে পেয়ে থাকি। প্রতিদিন খাবার তালিকায় মাত্র এক গ্লাস দুধ আমাদের দেহের যতোটা উপকার করে তা অন্য কোনো খাবার করতে পারে না। এই কারণেই দুধকে বলা হয় সর্বগুণ সম্পন্ন খাবার অর্থাৎ আদর্শ খাদ্য (Ideal Food)।বিশেষজ্ঞদের মতে একজন পূর্নবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ২৫০ মিলি. দুধ পান করা উচিত।
 

দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের উপকারিতাঃ-

মজবুত হাড় ও দাঁত,মাংসপেশির গঠন উন্নত করে,ওজন কমাতে সহায়তা করে,ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে,মানসিক চাপ দূর করে,বুক জ্বালাপোড়া বন্ধ করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।   

 

* দই খাওয়ার উপকারিতাঃ-

টক দই শরীরের মেদ কমায়। প্রতিদিন ১৮ আউন্স দই খেলে ওজন কমে। দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং টক দই রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল(LDL)কমায়।

 

* ঘি খাওয়ার উপকারিতাঃ-

ওজন হ্রাসকরে,শক্তি বৃদ্ধি করে,মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমায়,কোলেস্টেরল কমায়,হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়,প্রদাহ দূর করে,চোখের স্বাস্থ্য ভাল করে এবং মস্তিষ্কের সুরক্ষায় খুবই উপকারি।

 

* পনিরের উপকারিতাঃ-

পনিরে রয়েছে ক্যালসিয়াম,সোডিয়ামসহ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ। পনিরে লিনোলিক এসিড ও স্পিনগোলিপিডস নামে এক ধরনের উপাদান রয়েছে যা মরণব্যাধি ক্যান্সার প্রতিরোধে অত্যান্ত কার্যকর।

 

ছাগীর দুধে মোট সলিড ১৪.৪১%,ফ্যাট ৪.৩৭%,প্রোটিন ৪%,ল্যাকটোজ ৫.২৪%, অ্যাস ১.৪২%,ভেড়ীর দুধে ফ্যাট ৫.০৯,প্রোটিন ৩.৩৩%,ল্যাকটোজ ৬.০১%,খনিজ ১.৬০,মোট শুষ্ক পদার্থ ১৬.০৩%।

   

ব্যানারের এ ছবিটির মাধ্যমে মানুষ দুগ্ধ খামার করণের ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ হবেন এবং দুধের গুনাগুন সর্ম্পকে জানতে পারবেন। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর,ভোলা নিরলশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভোলাবাসীর দুধের চাহিদা মিটিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন সম্ভব হয়।