মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জেলা পর্যায়ঃ প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা-

ক. সাম্প্রতিক বছরসমুহের প্রধান অর্জনসমূহ (২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছর) জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, ভোলা অত্র জেলার প্রাণীজ আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগী ও প্রাণীজাত দ্রব্যাদি (যথা: ডিম, দুধ, মাংস) এর উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে বিদ্যমান প্রাণিসম্পদের সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিক অর্থবছরসমূহে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে যথাক্রমে প্রজননক্ষম ১০৬০৮টি, ১৪৭৮৮টি এবং ১২১৫৪টি গাভীকে কৃত্রিম প্রজননের আওতায় আনা হয় এবং ২৮৮৩টি, ৩৭৫০টি এবং ৩৮৫২টি উন্নত জাতের প্রজেনী রেকর্ডিং করা হয়। রোগ প্রতিরোধে যথাক্রমে ১৪০৪৮৬ মাত্রা, ১৬০০৯২ মাত্রা ও ১০০০০০ মাত্রা গবাদিপশু এবং ৩৯৯১০০০ মাত্রা, ৩৬৫৪৬৯২মাত্রা ও ৩৩৩৮৩০০মাত্রা পোল্ট্রি টিকাবীজ প্রয়োগ করা হয়েছে। গবাদিপশু ও পোল্ট্রির চিকিৎসা কার্যক্রমের আওতায় ১৬৯০৮৬টি, ২৬৩১৩৬টি ও ২৫০০০০টি গবাদিপশু এবং ৬৪২৪৬৪টি, ৯৪৫২২৪টি ও ৯১৬০০০০টি পোল্ট্রিকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।বিগত ২০১৪-১৫,২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভোলা জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জন করেছে।জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর,ভোলা এর ওপর অর্পিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও অঙ্গীকারবদ্ধ। খ. সমস্যা ও চ্যালেঞ্জসমূহ গবাদিপশুর সনাতন পালন ব্যবস্থাপনা, কম উৎপাদনশীলতা, সচেতনতার অভাবে কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি গ্রহনে অনীহা, গুণগতমানসম্পন্ন খাদ্যের অপ্রতুলতা, প্রাণীজাত উৎপাদসমূহের সংরক্ষণ ও বিপনন ব্যবস্থার ঘাটতি, উৎপাদন সামগ্রীর উচ্চমূল্য, রোগের প্রাদুর্ভাব, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতি, প্রণোদনামূলক উদ্যোগের অভাব, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব ইত্যাদি অত্র জেলায় প্রাণিসম্পদের সম্প্রসারণ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এছাড়াও প্রশিক্ষিত জনবল ও লজিস্টিকসের অভাবই জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সক্ষমতাকে সীমিত করেছে। গ. ভবিষ্যত পরিকল্পনা গবাদিপশুর আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরনের জন্য উঠান বৈঠক আয়োজন, প্রতিটি ইউনিয়নে মডেল খামার স্থাপন এবং মডেল খামারসমূহে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষক প্রশিক্ষণ, প্রজেনী শো এবং মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছসেবীদের সহযোগিতায় কৃষকদের কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তি গ্রহনে সচেতন করে তোলা হবে। দেশী মহিষের জাত উন্নয়নের মাধ্যমে দুধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করন,জরোচ্ছা¦সসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে গবাদিপশুর নিরাপত্তার জন্য চরে টিলা/কেল্লা সৃষ্টিতে কার্যক্রম গ্রহণ,চরে ঘাস চাষ বৃদ্ধিকরণ,উন্নত জাতের ঘাস চাষের সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্যাম্পাস নার্সারি ও কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনী নার্সারি স্থাপন করা হবে। সারাবছর গুণগতমানসম্পন্ন গোখাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিতকরণের জন্য “প্রাণিপুষ্টি উন্নয়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প” এর সহযোগিতায় কৃষকদের মাঝে খড় প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ প্রযুক্তির বিস্তার ঘটানোসহ ঘাসের বাজার সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়া হবে। বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রাণীজাত দ্রব্যাদির মূল্য সংযোজনের উদ্ভাবনী পদক্ষেপ প্রচলনের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ভ্যাকসিনেসন ও ডিওয়ার্মিং ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করা হবে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার সাথে পরিচিত করা, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত পরিবর্তিত অবস্থার সাথে অভিযোজিত করা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ঘাটতি মেটানো হবে। সফল খামারীদের পুরষ্কৃত করা, ইনসেন্টিভ প্রদান, সার্টিফিকেট প্রদান ইত্যাদির মাধ্যমে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ডাটাবেইজ হালনাগাদের পদক্ষেপ নেয়া হবে। জনসংখ্যার ক্রম বর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে ৫ বছরের কর্ম-পরিকল্পনা অত্যাবশ্যকীয় । বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ১.৩৭ অনুযায়ী প্রতিবছর ২৩ লক্ষ শিশু জম্ম নিচ্ছে । তদানুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা আগামী ৫ বছর পর ১৭.৫০ কোটি হবে ।ভোলা জেরায় জনসংখ্যা হবে প্রায় ২৪.৫ লক্ষ। ২৪.৫ লক্ষ মানুষের প্রানিজ প্রোটিনের চাহিদাকে মাথায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন । প্রতিদিন একজন মানুষের ২৫০ মিলি দুধ প্রয়োজন । তদানুযায়ী বর্তমান প্রতিদিন চাহিদার পরিমান ৫০৯মে. টন। আগামী ৫ বছরে ৬১২ মে.টন মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধের প্রয়োজন হবে । যেহেতু খাটতিপ্রায় ১৭% সেহেতু উৎপাদন বহুগুন বাড়ালে বিশাল জনগোষ্টির স্বাস্থ্য সুরক্ষা হবে । এবারে সেক্টর ভিত্তিক কর্ম-পরিকল্পনা তুলে ধরা হ’ল ঃ জেলা পর্যায় ঃ ০১. জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদবী পরিবর্তন করে উপ-পরিচালক (প্রাণিসম্পদ) করা প্রয়োজন । জেলা পর্যায়ের কৃষি বিভাগের মত আরও ০৫ টি পদ সৃষ্টি করে মোট ০৬ টি পদ সৃষ্টির মাধ্যমে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন । উপ-পরিচলক (প্রাণিসম্পদ) -------------- ০১ জন । অতিরিক্ত উপ-পরিচলক (প্রাণিসম্পদ) ----- ০৩ জন । জেলা প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ------------------ ০১ জন । প্রকৌশলী (নন-ক্যাডার) ----------------- ০১ জন । এছাড়া জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বর্তমানে ০৪ জন তৃতীয় শ্রেনী ও ০৪ জন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী রয়েছে যাদের সংখ্যা তিনগুন বাড়ানো প্রয়োজন । ০২. জেলা হাসপাতালের আধুনিকিকরন ও সম্প্রসারণ প্রয়োজন যেখানে মানুষের হাসপাতালের মত রোগী রাখার ব্যবস্থা করে একজন ডিভিও এর অধীনে ০৫ জন ভেটেরিনারিয়ানের পদ সৃষ্টি করা জরুরী । এছাড়া বর্তমানে ০২ জন তৃতীয় শ্রেনীর স্থলে ০৬ জন এবং ০২ জন ৪র্থ শ্রেনীর পরিবর্তে ৮ জন করা জরুরী । ০৩. জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে কমপক্ষে ০৩ টি গাড়ীর ব্যবস্থা, ডিজিটালাইজ করনসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন । ০৪. জেলা প্রাণিহাসপাতালটিতে রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরীর সকল সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা প্রয়োজন । ০৫. প্রতিটি জেলায় জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে গরু, মহিষ ও ছাগলের জাত উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহন । ০৬. প্রতিটি জেলায় একটি হাঁস-মুরগীর খামার স্থাপন করে তার মাধ্যমে জনগনের চাহিদা মোতাবেক হাঁস-মুরগীর বাচ্চা বিতরন । ০৭. বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের প্রশিক্ষন বাড়ানো প্রয়োজন এবং এর জন্য প্রতি বছর পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান প্রয়োজন যা উপজেলা ভিত্তিক বন্টন করে মানুষকে সচেতন করে তোলা যায় । ০১। প্রাণিসম্পদ উৎপাদন একটি মৌলিক উৎপাদন। তাই এই খাতটিকে বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাণিসম্পদ বিভাগে বিদ্যমান জনবল কাঠামো সংশোধন পূর্বক উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক ০১ জন করে ভেটেরিনারি চিকিৎসক এবং ভি.এফ.এ,ভেটি.কম্পাউন্ডার,ড্রেসার পদ সৃষ্টিসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগীয় সেবা ইউনিট/কমিউনিটি ভেটেরিনারি ক্লিনিক স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় লাজষ্টিক সহায়তা প্রদান। ০২। উপজেলা হেডকোয়র্টার ভেটেরিনারি হাসপাতালটিকে অত্যাধুনিক এবং ডিজিলাইজড প্রাণিচিকিৎসা কমপ্লেক্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেটেরিনারি চিকিৎসক,আবাসিক ভেটেরিনারি সার্জন,প্যাথলজিষ্ট,প্রাণিপুষ্টি বিশেষজ্ঞ,ভেটেরিনারি পাবালক হেলথ বিশেষজ্ঞ,প্রিবেনটিভ ভেটেরিনারি মেডিসিন অফিসারের পদ সৃষ্টি। ০৩। উপজেলা হেডকোয়ার্টার ভেটেরিনারি হাসপাতালে জরুরী বিভাগ খোলা এবং এম্বুলেন্স প্রদান। ০৪। দূরবর্তী এলাকায় জরুরী চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য যাবতীয় চিকিৎসা উপকরণ ও সরঞ্জামাদিসহ এমবুলেটরী ক্লিনিক প্রদান। ০৫। উপজেলা হেডকোয়ার্টার ভেটেরিনারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হিটডিটেকশন মেশিন,পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন,পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন সরবরাহ এবং সাথে সাথে উক্ত মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন। ০৬। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলে সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করা সম্ভবপর হয় না তাই উপজেলা ওয়ারী গবাদিপশু পরিসংখ্যান হালনাগাদ করার জন্য লাইভষ্টক পরিসংখ্যানসহকারী নামক একটি পদসৃষ্টি করা যিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সেবাকর্মীর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সাপ্তাহিক বাচ্চা উৎপাদন তথ্য,প্রাণির সংখ্যার উৎপাদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি হালনাগাদ করে একটি বিশেষ সফটওয়ারে নিয়মিত আপডেট করবেন যাহা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অর্থনীতি শাখায় অবস্থিত কেন্দ্রিয় সার্ভাওে সংযুক্ত থাকবে। ০৭। খামার ভিত্তিক (বানিজ্যিক ও পারিবারিক) প্রতিটি গবাদিপশুর স্বাথ্য কার্ড তৈরী এবং সে অনুযায়ী প্রিভেনটিভ ব্যবস্থাদি গ্রহণ করবেন এবং প্রিভেন্টিভ ভেটেরিনারি মেডিসিন অফিসার বিষয়টি তদারকি করবেন। ০৮। ডিজিজ রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য ইউনিয়ন,উপজেলা ও জেলা ভিত্তিক বিশেষ সেল গঠন এবং সফটওয়ার তৈরী করে নিয়মিত আপডেট করতে হবে। ০৯। প্রানিজ আমিষের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য তাই যত দ্রুত সম্ভব এ খাতকে ডিজিটিলাইজড কওে সর্বশেষ পরিসংখ্যানগত তথ্যবলী,উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগত তথ্যবলি ইত্যাদি সাধারন ষ্টেকহোল্ডারদের অবহিতকরণের জন্য সিটিজেন্স চার্টার,উপজেলা,জেলা ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং ওয়েব পোর্টালে নিয়মিত আপডেট করতে হবে। ১০। দুধ,মাংস,ডিম উৎপাদনকারীদের আরো অধিকতর স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলতে হবে এবং জনস্বাথ্য ও পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করে তুলতে হবে যাহা নিরাপদ তথা ভেজালমুক্ত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ১১। উৎপাদিত প্রানিজ আমিষের বিশুদ্ধতা এবং গুনগত মান বজায় রাখা এবং সংরক্ষণের জন্য বাফারষ্টক তৈরী এবং এ ক্ষেত্রে খামারীগণকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ,প্রযুক্তি হস্তান্তর,যান্তিক উপকরন সরবরাহ,উৎপাদন ভর্তূকি দিয়ে উৎসাহিত করতে হবে। ১২। বাজারে প্রাপ্য পশু ও পোল্ট্রি খাদ্যের মান নিশ্চিত করনে পশু ও মৎস্য খাদ্য আইন-২০১০ এর ব্যাপক প্রয়োগ এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনমত আরো আইন,বিধি প্রনয়ন কওে উপজেলা কর্মকর্তাগণকে ম্যাজিষ্ট্রেসী ক্ষমতা প্রদান করতে হবে। ১৩। কমপক্ষে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে হলেও একটি কওে প্রকৌশলীর পদ সৃষ্টি করতে হবে যার মাধ্যমে বেসরকারী উদ্যোক্তাগণ তাদের নতুন নতুন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর খামার স্থাপনের সাইট সিলেকশন,প্লানিং ও ডিজাইনিং এর যাবতীয় সেবাদি বিনামূল্যেগ্রহন করতে পারেন। ১৪। মল,মুত্রসহ সকল ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতম কলাকৌশল,ভৌত অবকাঠামো নির্মান,শিক্ষণ,প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজনে ভর্তূকি মূল্যে ব্যবহার কওে বর্জসমূহকে জৈবসাওে রুপান্তরিত করতে হবে। ১৫। খামারীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনে নি¤œলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহন করা যেতে পারে- ক. প্রাণিখাদ্য বিপননের ক্ষেত্রে সরকারী/বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খ. উৎপাদিত দুধ,ডিম,মাংস বাজারজাতকরণের সরকার সকল পর্যায়ে উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে যৌক্তি নূন্যতম মূল্য নির্ধারন করে তা কার্যকরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। গ. ০১ দিনের ব্রয়লার,লেয়ার ও হাঁসের বাচ্চার যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে হ্যাচারী মালিকদেও কার্যক্রম নজরদারীতে রাখবে। ঘ. সকল প্রকার খামারীদেরকে স্বল্পমূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। ঙ. দুগ্ধ উৎপাদন খামরীদেও চাহিদাভিত্তিক স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দিতে হবে। চ. দুগ্ধ খামারীদেরকে ইনসেন্টিভ চালু করা। দ্বীপজেলা ভোলার প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে সুপারিশঃ ০১। বিচ্ছিন্ন চরসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মাটির কিল্লা নির্মাণ। ০২। সরকারী খাস জমি জেগে ওঠা চরে পর্যাপ্ত পরিমান চারনভূমির জরুরী ব্যবস্থা করা। ০৩। ইনব্রিডিং এর কারনে অবক্ষয়িত মহিষের জাত উন্নয়নে স্বল্প পরিসরে চালু কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে চালু করতে হবে। ০৪। মহিষের প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য উন্নত জাতের ষাড় মহিষ বিনামূল্যে সূনির্দিষ্ট বাতান মালিকদের তত্তাবধানে ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। ০৫। ভোলা জেলায় একটি মহিষ প্রজনন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা। ০৬। দূর্যোগ মোকাবেলায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির মালিকদের সচেতন করার জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গ্রহন। ০৭। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯২৭ সনের বন আইনে (২০০০ সনে সংশোধিত) ভোলা জেলার চরফ্যাশনসহ সুনির্দিষ্ট এলাকায় নূতন জেগে উঠা চর/খাস ভূমি সমূহ “সংরক্ষিত বন এলাকা” গঠনের সিদ্ধন্তের ফলে এবং উক্ত আইনের(১৯৯০ সনে সংশোধিত) ৬ নং ধারা মোতাবেক জারি করা ইস্তেহার অনুসারে ইক্ত এলাকার কোন খাস জমি/নূতন জেগে উঠা চর ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের মতামত ব্যতীত কোন প্রকার ইজারা বা বন্দোবস্ত দেয়ার সুযোগ না থাকায় এখানে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহন করেও খাস জমিতে বা জেগে উঠা নতুন চরে গো-চারনভূমি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভবপর হচ্ছে না বিধায়। উক্ত আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। ০৮। উপকূলীয় জেলা,উপজেলার চরসমূহে দূর্যোগ/দূর্যোগপরবর্তী উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য উপযোগী ইঞ্জিন বোট সরবরাহ। ০৯। যেহেতু ভোলা জেলা চারিদিকে নদী-সাগর বেষ্টিত তাই প্রাণিসম্পদ বিকাশে এ জেলাকে সংক্রামক রোগমুক্ত মডেল জেলা ঘোষণা করে এ সংক্রানত যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহন কওে অবারিত চর ভূমিতে সবুজ ঘাসের উৎপাদন বাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া,নিউজিল্যান্ডের মত প্রাণিসম্পদকে শিল্প হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :

Facebook Twitter